ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনের বিপক্ষে ড্র করে প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচটির পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন দলটির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচ শেষে তার আবেগঘন বক্তব্যও ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়।
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
খেলা শেষে মাঠেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভোজিনিয়া। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি নিজের জীবনের সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ভোজিনিয়া জানান, এই বিশেষ মুহূর্তে তার মা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না পাওয়ায় ছেলের বিশ্বকাপ অভিষেক সরাসরি দেখার সুযোগ হারিয়েছেন তিনি।
অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচটি তার জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগের। ছোটবেলায় তিনি দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছেন, কিন্তু তারা এখন আর বেঁচে নেই। সেই সঙ্গে মায়ের অনুপস্থিতিও তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে।
নিজের দীর্ঘ ফুটবল যাত্রার কথা স্মরণ করে ভোজিনিয়া বলেন, জীবনের অনেকটা সময় সংগ্রাম করেই কাটিয়েছেন। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি পেশাদার ফুটবলে নিয়মিত ছিলেন না। তাই বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এসে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা তার কাছে স্বপ্নপূরণের সমান।
তিনি বলেন, যদি তরুণ বয়সের নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতেন, তাহলে নিজেকেই পরিশ্রমের জন্য অভিনন্দন জানাতেন। কারণ একসময় যে স্বপ্নকে প্রায় অসম্ভব মনে হয়েছিল, আজ সেটিই বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
৪০ বছর ১২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলে ভোজিনিয়া বিশেষ এক রেকর্ডও গড়েছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক হওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
তার মতে, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি পুরো কেপ ভার্দের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়। ছোট একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারায় তিনি উচ্ছ্বসিত।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচ আগামী রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে সৌদি আরবের।

