দৈনিক সময়পত্র এদেশের খেটে খাওয়া দুঃখী মানুষের কথা, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, কামার,কোমরের কথা বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের অসংগতি, অনৈতিক কর্মকান্ড তুলে ধরবে অন্য সকলের মত আমারও সেটাই প্রত্যাশা।
নিম্নে আমি দেশের কিছু বৈষম্য, কিছু অসংগতির চিত্র তুলে ধরছি যার সবই আমার মস্তিষ্ক প্রসূত নয় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহিত। আগামীতে যাঁরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হবেন তাঁদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে তাঁরা যেন অসংগতিগুলো দূর করে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দেন।
১. আমরা দেখি, এক শ্রেণির ভূমি দস্যুরা এদেশের খাল-বিল, নদী-নালা অবৈধ ভাবে দখল নিয়ে ভরাট করে এবং স্থাপনা গড়ে তুলে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে একসময় সরকারি অর্থ ব্যয় করে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থাপনা ভেঙ্গে সরকারি খাস জমি দখল মুক্ত করে। যেসব এলাকায় খাস জমি দখল করে এইরকম স্থাপনা গড়ে তোলা হয় সেইসব এলাকার ভূমি মন্ত্রণালয়ের যেসকল কর্মকর্তা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা যদি দখলে বাঁধা দেন এবং স্থাপনা নির্মাণের শুরুতেই তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের ব্যয় রোধ করা সম্ভব। আম জনতার প্রত্যাশা এভাবে যেন সরকারি অর্থের অপচয় না হয়।
২. এদেশের বড়ো বড়ো শিল্পপতিরা কোটি কোটি টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে ঋণ খেলাপি হয় এবং সামর্থ্য থাকলেও ফেরত দেওয়ার নাম করেনা। অথচ খেটে খাওয়া গরীব মানুষ পাঁচ / দশ হাজার টাকা ঋণ করে সময় মতো কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তাঁদের গরু-ছাগল এমন কী বসত ভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হয়। ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে অনেককে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়। এই বৈষম্য যাতে দূর হয় সেটাও মানুষ নতুন বাংলাদেশের কাছে প্রত্যশা করে।
৩. এদেশের মন্ত্রী-মিনিস্টারদের নিরাপত্তার জন্য ৪০/৫০ জন পুলিশ থাকে অথচ গ্রামের অনেক স্কুল আছে সেখানে ৪০/ ৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষকের ব্যবস্থা নেই। গ্রামীণ জনমনে এ বিষয়ে অসন্তোষ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।
৪. বড়ো লোকদের রোগ হলে চিকিৎসা নিতে বিদেশে পাড়ি জমায়। গরীদের জন্য দেশের হাসপাতালে ডাক্তার থাকে না, ওষুধ নাই, সীট না পেয়ে মাদুর বিছিয়ে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়, তারপর ধুকে ধুকে একদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে সান্ত্বনা খুঁজতে হয়। নতুন বাংলাদেশের কাছে জনগণ এ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করে।
৫. আজকাল লাখ লাখ টাকার প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়। বড়ো লোকের ছেলেমেয়েরা টাকার বিনিময়ে সেইসব প্রশ্নপত্র কিনে পরীক্ষা দিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়। গরীবের সন্তানেরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে কেউ নুন তেলের ব্যবসায় নামে আর কেউ দালালদের খপ্পরে পড়ে বাপের জমিজমা বিক্রি করে নতুন জীবন গড়ার আশায় অবৈধ পথে বিদেশের উদ্যেশে রওয়ানা দিয়ে মাঝ দরিয়ায় নৌকা ডুবে প্রাণ বিসর্জন দেয়। নতুন সরকারের কাছে ভুক্তভোগী জনগণ এইসব দালালদের উৎখাতের আশা করে।
৬. বিএ, এমএ পাশ করে একজন চাকরি প্রার্থীকে একটি সার্টিফিকেটের জন্য লেখা পড়া না জানা কিংবা এইট পাশ একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে দিনের পর দিন ধর্ণা দিতে হয়। অথচ টাকা থাকলে চাকরির পরীক্ষায় সাদা কাগজ জমা দিলেও চাকরি হয়ে যায়। জনগণ এর অবসান প্রত্যাশা করে।
– ছড়াকার, কবি, উপন্যাসিক মুহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান।

