দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে দলটি। তবে রাজনৈতিক গতি ফিরে পেলেও দলের বেশ কয়েকজন নেতার বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্যে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে জামায়াত।
বিতর্কের সূচনা: প্রশাসন নিয়ে ‘গার্ডিয়ান অব চিটাগং’ মন্তব্য
সম্প্রতি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এক সমাবেশে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন,
“আমার জন্য সূর্যও দাঁড়িয়ে থাকে। আমি গার্ডিয়ান অব চিটাগং।”
এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয় এবং নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও সচেতন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা আসে।
ওয়াজ মাহফিলে বিতর্কিত মন্তব্যে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া
জামায়াতের আরেক নেতা আমির হামজাও সম্প্রতি আলোচনায় আসেন। একটি ওয়াজ মাহফিলে তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করলেও পরে তা অসত্য প্রমাণিত হয়। একই মঞ্চে তিনি বলেন,
“মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সাংবাদিক।”
এ ধরণের মন্তব্যে দেশজুড়ে ধর্মীয় ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন উঠছে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে
এমন ধারাবাহিক বিতর্কিত বক্তব্যের পরও দলীয় ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ কেবল সতর্কতা ও শোকজ নোটিশে— এমন অভিযোগ উঠেছে দলের ভেতর ও বাইরে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
দলীয় উদাসীনতার কারণেই কি নেতারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন?
জামায়াতের ব্যাখ্যা: ‘ব্যক্তিগত বক্তব্য, দলের নয়’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ বিষয়ে বলেন,
“বেফাঁস মন্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তির নিজস্ব। দল এগুলোর দায় নেবে না। প্রয়োজনে আমরা কঠোর সিদ্ধান্তও নিই। কেউ সংশোধন না হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন,
“ভুল বা সীমালঙ্ঘন দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দলের নীতি ভঙ্গ করলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
রাজনীতিতে গতি ফিরলেও বিতর্কের ভার
দলটি রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে— তবে নেতাদের এমন মন্তব্য দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে দায়সারা মনোভাব দেখা গেলে, বিতর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

