নিজস্ব প্রতিবেদক
আটলান্টিক মহাসাগরের গভীর নীল পানির ওপর ভাসছে জার্মানির বিখ্যাত গবেষণা ও বরফভাঙা জাহাজ ‘পোলারস্টার্ন’। সেই জাহাজেই চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক সমুদ্র গবেষণা কর্মসূচি ‘ফ্লোটিং সামার স্কুল’। বিশ্বের তিন হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করা মাত্র ২০ জন তরুণ গবেষকের একজন বাংলাদেশের সাবিত হোসেন—শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
জাহাজই তাদের ক্লাসরুম
চারদিকে শুধু পানি আর পানি। এই পরিবেশেই চলছে গবেষণার ক্লাস, ল্যাব ও সাগরের তলদেশের তথ্য সংগ্রহ। প্রতিদিন সকালে নাশতার পর শুরু হয় প্রশিক্ষণ। কখনো সাগরের বিভিন্ন গভীরতা থেকে পানি সংগ্রহ, কখনো প্ল্যাঙ্কটন স্যাম্পলিং, আবার কখনো আধুনিক যন্ত্র দিয়ে তাপমাত্রা ও পরিবেশসংক্রান্ত তথ্য পরিমাপ।
সাবিত বলেন,
“আমরা সিটিডি রোসেট, এক্সবিটি, আন্ডারওয়ে প্রোফাইলিংসহ নানা পদ্ধতি হাতে–কলমে শিখছি। আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে কাজ করে নৈতিকতা, মান বজায় রাখা ও টিমওয়ার্ক শেখা হচ্ছে।”
পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মডিউলে প্রশিক্ষণ
১. সমুদ্রবিজ্ঞান
২. সমুদ্র মডেলিং
৩. পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি
৪. জলবায়ু পরিবর্তন
৫. বিজ্ঞান প্রচার ও দর্শন
এসব শেখার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সাগরের আচরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতি গভীরভাবে বুঝতে পারছেন।
বাংলাদেশ থেকে আরও একজন
এই গবেষণা অভিযানে প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন শাবিপ্রবির সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুব্রত সরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত পাঁচজন প্রশিক্ষকের একজন তিনি।
সমুদ্রপথে এক মাস
‘পোলারস্টার্ন’ জাহাজটি ১৩ নভেম্বর জার্মানির ব্রেমারহ্যাভেন বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। পথে সমুদ্রজীবন, জলবায়ু তথ্য, গভীর সমুদ্রের বৈশিষ্ট্য—সবই সংগ্রহ করছেন গবেষকেরা। আগামী ১২ ডিসেম্বর জাহাজটি নামিবিয়ার ওয়ালভিস বে বন্দরে পৌঁছানোর কথা।
গভীর সমুদ্রে ভেসে থাকলেও স্টারলিংক ইন্টারনেট থাকায় যে কোনো সময় দেশে যোগাযোগ করতে পারছেন সাবিত।
বাংলাদেশের জন্য কী গুরুত্ব
সাবিত মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা দেশের সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিবে।
তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের উপকূলীয় সমস্যা, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ ও ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে এই শেখা অনেক কাজে লাগবে। বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।”
প্রশিক্ষকদের আশা
প্রশিক্ষক সুব্রত সরকার বলেন,
“ভাসমান গবেষণাপদ্ধতি সমুদ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত। তরুণ গবেষকেরা দেশে ফিরে ভবিষ্যতের সমুদ্র বিজ্ঞানচর্চায় নেতৃত্ব দেবেন।”

