নিজস্ব প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ শহরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ককটেল বিস্ফোরণে দুই রিকশাচালক আহত হয়েছেন। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে শহরের বাসস্ট্যান্ড, ইউনাইটেড হাসপাতাল এলাকা ও গোলড়া হাইওয়ে থানা সংলগ্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, যেখানে পরপর দুটি ককটেল ফাটলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা ছুটোছুটি করতে থাকে। এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালের সামনে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর গোলড়া হাইওয়ে থানার সামনে চতুর্থ বিস্ফোরণটি শোনা যায়।
বিস্ফোরণে রিকশাচালক সাগর হোসেন (১৭) ও নবীর হোসেন (৫২) আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশ বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে টহল জোরদার করে। সন্দেহভাজন হিসেবে একটি পিকআপ ভ্যানের চালক, তার সহকারী এবং পরবর্তীতে ওই পিকআপের মালিককে আটক করা হয়েছে।
এর আগেও চলতি নভেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ১৩ নভেম্বর রাতে শিবালয়ের ফলসাটিয়া এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে পার্কিং অবস্থায় দি হলি চাইল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দিলে চালক তাজেস খান দগ্ধ হন। তার একদিন আগে, ১২ নভেম্বর মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে চলন্ত একটি পিকআপ থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
এ ছাড়া ৮ নভেম্বর শিবালয়ের উথুলী মোড়ে সারমানো সিএনজি স্টেশনে পার্কিং করা মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই রাতে সাটুরিয়ার দরগ্রাম গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয়ের সামনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন রাব্বি জানান, ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

