ক্রিড়া ডেস্ক: ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে ওয়্রেক্সহ্যামকে ১-০ গোলে হারিয়েছে হামজা চৌধুরীর দল শেফিল্ড ইউনাইটেড। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ব্রামল লেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দলের জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন চিলির ফরোয়ার্ড বেন ব্রেরেটন দিয়াজ। চলতি মৌসুমে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে ধারে তৃতীয়বারের মতো খেলছেন ব্রেরেটন দিয়াজ। তাঁর প্রথমার্ধের গোলেই জয় নিশ্চিত হয় কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারের দলের। শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এটি শেফিল্ডের তৃতীয় জয়। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ আটে থাকা দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান এক পয়েন্টের মধ্যে নামিয়ে এনেছে তারা।
মৌসুমের প্রথম পাঁচ লিগ ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পাওয়ার পর পয়েন্টের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। অন্যদিকে আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণের ধার হারানো ওয়্রেক্সহ্যাম শেষ সাত লিগ ম্যাচের মধ্যে চতুর্থ পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে।
রিমেমব্র্যান্স দিবস উপলক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ‘দ্য লাস্ট পোস্ট’ বাজানো হয়। এ সময় গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে প্রাধান্য বিস্তার করে স্বাগতিক শেফিল্ড।
জর্ডান আয়ুর একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে সিডি পেকের নিচু শট সহজেই আটকে দেন ওয়্রেক্সহ্যামের গোলরক্ষক অ্যান্থনি প্যাটারসন। তবে মাঝমাঠের খেলোয়াড় কালভিন ফিলিপস চোট পেয়ে চিকিৎসার জন্য মাঠ ছাড়লে সাময়িকভাবে ছন্দ হারায় শেফিল্ড। সাবেক লিডস মিডফিল্ডার আবার মাঠে ফিরলে স্বস্তি ফিরে পায় স্বাগতিক দল।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে লুইস ও’ব্রায়েনের দুর্বল শট থেকে প্রথমবারের মতো গোলের চেষ্টা করে ওয়্রেক্সহ্যাম। এর কিছুক্ষণ পরই এগিয়ে যায় শেফিল্ড ইউনাইটেড। অধিনায়ক জাফেট তাঙ্গাঙ্গার পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পান আয়ু। তাঁর নিচু শট গোলরক্ষক প্যাটারসন ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে পা ছুঁইয়ে জালে পাঠান ব্রেরেটন দিয়াজ।
প্রথমার্ধে ওয়্রেক্সহ্যাম উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। তবে বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ে গোলের সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু শেফিল্ডের ডিফেন্ডার লিয়াম কিচিংয়ের সময়োপযোগী ট্যাকলে অলিয়ে রাথবোনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে আক্রমণে ফেরে ওয়েলশ ক্লাবটি। সাবেক শেফিল্ড ইউনাইটেড স্ট্রাইকার কিফার মুরের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে স্বাগতিক দর্শকদের দুয়ো শুনতে হয় তাঁকে।
গোলের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছিল শেফিল্ডও। গোলরক্ষক মাইকেল কুপারের লম্বা কিক থেকে বল পেয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান আয়ু। তবে তাঁকে থামাতে পেছন থেকে দ্রুত ছুটে এসে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ট্যাকল করেন বেন শিফ।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ব্রেন্টফোর্ড থেকে ধারে খেলতে আসা শেফিল্ডের তরুণ উইঙ্গার রোমেল ডোনোভানকে তুলে নেন কোচ। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর দৃষ্টিনন্দন ড্রিবলিংয়ের জন্য গ্যালারি থেকে করতালি পান তিনি। তাঁর বদলি হিসেবে নামা টাইরিস ক্যাম্পবেল কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে পেককে বল বাড়িয়ে দেন। তবে পেকের নিচু শটও আটকে দেন প্যাটারসন।
যোগ করা ছয় মিনিটে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ওয়্রেক্সহ্যাম। কিন্তু বদলি হিসেবে নামা ড্যানি ইমরে কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তাঁর শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর স্যাম স্মিথের হেড সরাসরি জমা পড়ে শেফিল্ডের গোলরক্ষক কুপারের হাতে।
শেষ পর্যন্ত ব্রেরেটন দিয়াজের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেড।

