দেশের বন্ধ থাকা টেক্সটাইল ও জুটমিলগুলো পুনরায় সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
মঙ্গলবার সকালে নরসিংদী-র পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুট মিলস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে এসব মিল বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রস্তাবগুলো মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার মূলত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এসব শিল্প চালাতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, একসময় এসব শিল্পকারখানায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। পুনরায় মিল চালু হলে স্থানীয়দের জন্য প্রায় শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তবে কারিগরি বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে জনবল নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোনালি আঁশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পাটবীজের মানোন্নয়ন ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি পাটচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে পাটের দাম মণপ্রতি প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে তিন হাজার টাকার মধ্যে ছিল।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় অতীতে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

