নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত সুলতান মিয়া হত্যা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা শাকিব হোসেন (রাব্বি)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা দাউদকান্দির বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিলে মহাসড়কের রাজারহাট থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
নিহত সুলতান মিয়া তিতাস উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গৌরীপুর বাজারে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন তাঁর স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, তদন্তে শাকিব হোসেনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না।
শাকিব হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভাই নবীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের জহির হোসেনের ছেলে। শাকিব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাউদকান্দি উপজেলা কমিটির মুখপত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শাকিবের বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,
“শাকিব জীবন বাজি রেখে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আমার ছোট ভাইকে বিনা দোষে ফাঁসানো হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কে বা কারা পুলিশকে দিয়ে আমার দুই ভাইকে মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“মামলার তদন্ত করতে গিয়ে শাকিব হোসেন ও নবীর হোসেনের নাম পেয়েছি। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত আছেন।”
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দাউদকান্দি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম শান্ত বলেন,
“জুলাই যোদ্ধা শাকিবকে কেন মধ্যরাতে বিনা নোটিশে, বিনা ওয়ারেন্টে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হলো তার ব্যাখ্যা চাই। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”

