ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কাতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের মিসাইল হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে পুড়ে যায় স্থাপনাটির কিছু অংশ। এটি দেশটির প্রধান এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র হওয়ায় ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কাতার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তেল পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস স্থাপনাতেও হামলার পর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের ভেতরেও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই ধারাবাহিক সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেল ও গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

