নিজস্ব প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক ইউনিয়নের বাসিন্দাকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে জন্ম সনদ তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে সায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. আহাদ নূরের বিরুদ্ধে। এর আগে একই ইউনিয়নের সচিব মো. মঞ্জুরুল হক দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়ার পর নতুন করে এ অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত মো. আহাদ নূর সায়েস্তা ইউনিয়নের টান গোপালনগর (কানাইনগর) গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে।
জানা যায়, পার্শ্ববর্তী চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজনগর গ্রামের বাসিন্দা মোন্নাফ বেপারীর ছেলে ওয়াসিমকে সায়েস্তা ইউনিয়নের বান্দাইল গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে জন্ম নিবন্ধন প্রস্তুত করা হয়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত জন্ম সনদে নাম ওয়াসিম, পিতা মোন্নাফ বেপারী এবং জন্মতারিখ ১০ অক্টোবর ২০০৯। কিন্তু সায়েস্তা ইউনিয়ন থেকে ইস্যুকৃত জন্ম নিবন্ধনে নাম মো. ওয়াসিম, পিতা আব্দুল মোন্নাফ এবং জন্মতারিখ ১০ অক্টোবর ২০০৪ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বয়স বেড়েছে পাঁচ বছর ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াইজনগর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিমের বান্দাইল গ্রামে বসবাসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ওটিপি যে মোবাইল নম্বর থেকে নেওয়া হয়েছে সেটি উদ্যোক্তা আহাদ নূরের বাবার নামে নিবন্ধিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা অনেকের কাগজপত্র আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নিয়মিত অফিস না করার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের নির্মল মজুমদার বলেন, চারটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য তার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। আড়াই মাস ঘোরানোর পর তিনটি দেওয়া হলেও একটি এখনো পাননি।
তবে অভিযুক্ত মো. আহাদ নূর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেন না এবং কারসাজির অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে সায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদী হোসেন জানান, উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

