জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনার পর বাহিনীটি তীব্র ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বর থেকে নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন শুরু করেন সদস্যরা।
তখন সব পর্যায়ের পুলিশের জন্য এক ধরনের পোশাক চালু করা হয়। বৈষম্য কমানো ও বাহিনীর ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া এ পদক্ষেপকে শুরুতে ইতিবাচকভাবেই দেখেছিল অনেকেই।
তবে নতুন পোশাক চালুর তিন মাসের মধ্যেই আবারও পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। পুলিশের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেন, পর্যাপ্ত গবেষণা বা জনমত যাচাই ছাড়া পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, কাপড়ের মান সন্তোষজনক নয়; কয়েকবার ধোয়ার পর রঙ ও মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য সমস্যাজনক।
অন্যদিকে, সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন যথেষ্ট নয়—পুলিশের আচরণ ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তনই বেশি জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, শুরুতে আপত্তি না জানিয়ে পরে এসে পোশাক পরিবর্তনের দাবি তোলা এক ধরনের ‘বিলম্বিত বোধোদয়’। তার মতে, বারবার ইউনিফর্ম পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে, যা বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা দেশের সীমিত।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই লাখের বেশি সদস্যের জন্য তিন সেট করে নতুন পোশাক, বুট, বেল্ট ও ক্যাপ সরবরাহে সরকারের ব্যয় হয়েছে দেড়শ কোটি টাকারও বেশি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—পরিবর্তন কি পোশাকে, নাকি প্রয়োজন কাঠামোগত ও মানসিক সংস্কার?

