রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা, আদাবর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং চক্র। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শনিবার রাতে আদাবরের একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় ঈদকে সামনে রেখে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। ‘আবির ফ্যাশন’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয় এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে আদাবর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কালা রাসেলসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
একই দিনে বসিলার তিন রাস্তার মোড়ে ছিনতাইয়ের একটি দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, এক পথচারীকে ঘিরে ধরে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিলার বাদল গ্রুপ নামে পরিচিত একটি চক্র এসব ঘটনায় জড়িত।
এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা না পেলে পুরো মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও উঠেছে। দোকানের ক্যামেরায় এমন হুমকির প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিলার বাদল, মোল্লা কাউসার, গ্রেজ সোহেল, কালা ফারুক, বাত রাসেলসহ বিভিন্ন গ্যাং সদস্যদের তৎপরতায় মোহাম্মদপুর, আদাবর, ঢাকা উদ্যান ও বসিলা সিটি হাউজিং এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার রাতের ঘটনায় জানা যায়, কালা রাসেল গ্রুপের সদস্যরা ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের কারখানায় চাঁদা দাবি করে। দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আদাবর থানার সামনে অবস্থান নেন। এতে সাময়িকভাবে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিটি এলাকায় মোবাইল পেট্রোল টিম রয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। ঈদ উপলক্ষে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

