নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি মন্ত্রণালয়ের কানুনগো (১০ম গ্রেড) পদে পদোন্নতির গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জ্যেষ্ঠ সার্ভেয়ারদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠদের নাম সুপারিশ করে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ অধিশাখা থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখের স্মারক (নং-৩১.০০.০০০০.০৪৬.১২.০১০.২২.৪০১) অনুযায়ী সার্ভেয়ার, ড্রাফটসম্যান ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পদ থেকে ১৮৮ জন এবং পরবর্তীতে আরও ১ জনসহ মোট ১৮৯ জনকে কানুনগো পদে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়-এ প্রেরণ করা হয়।
তবে অভিযোগ ওঠে, প্রেরিত তালিকায় ১৩১ জন সার্ভেয়ারকে জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুসরণ না করে এবং বিধি বহির্ভূতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠদের সুপারিশ করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে (স্মারক নং-৮০.০০.০০০০.১০৪.০১২.০২৩.২২(অংশ-১)-১২০) পিএসসি ভূমি মন্ত্রণালয়কে নন-ক্যাডার কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১ এর বিধি ১০ যথাযথ অনুসরণের নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে জ্যেষ্ঠতার তালিকার ক্রমানুসারে ১৮৯ জনের পদোন্নতি বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ প্রদান করে। পিএসসি প্রস্তাবটি সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠায় এবং ১০১৩ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রস্তুতের বিষয়েও মতামত দেয় বলে জানা গেছে।
এদিকে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১, ঢাকা-এ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পিএসসি কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ছিল অসম্পূর্ণ। পরবর্তীতে আদালত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আদেশ প্রদান করে পিএসসির ১৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখের স্মারক অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ আদালতে আদেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক সরকারের আমলে প্রস্তুতকৃত একটি বিতর্কিত তালিকা—যেখানে গ্রেডেশন নম্বর ৩৪, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৭, ৬৪, ৬৬, ৬৭, ৭২, ৭৩, ৭৫, ৮৩ ও ৩০৫/৩০৭সহ আরও কয়েকজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তার নাম রয়েছে—তা পুনরায় বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এতে পিএসসি ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অমান্য হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা আশা করছেন, বর্তমান নেতৃত্বাধীন ভূমি মন্ত্রণালয় জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা মেনে স্বচ্ছ গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করবে এবং পিএসসির সুপারিশ অনুযায়ী পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এ বিষয়ে কায়সার কামাল এবং মিজানুর রহমান মিনু-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে পদোন্নতি দেওয়া হলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।” এখন সকলের দৃষ্টি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের শুনানির দিকে—যেখানে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতি স্পষ্ট হতে পারে।

