ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আজ রোববার থেকে সারাদেশে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকিতে মাঠে থাকবেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব কার্যকরভাবে শুরু হচ্ছে।
ইসি কমিশনার জানান, সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান করছে এবং রোববার থেকে আরও সদস্য যুক্ত হবে। ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনা সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী জানিয়েছে—দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল।
তিনি আরও বলেন, সব ব্যালট বাক্স জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনসহ মাঠ প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুতি কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি ও কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপি সদস্য রয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন। এছাড়া সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং চৌকিদার ও দফাদার মিলিয়ে ৪৫ হাজার ৮২০ জন মোতায়েন থাকবেন।
নির্বাচনী এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। এসব বাহিনী জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষভাবে কোস্ট গার্ড সক্রিয় থাকবে। সব বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত রিপোর্ট দেবে।

