ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা। কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের গাড়িসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে বিভিন্ন মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের মালিকানাধীন কিছু পোশাক কারখানার মাধ্যমে এ খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও জিরাবো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকাতেও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাওজোর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই ঘটনায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মী হামলার শিকার হন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন।
এ ছাড়া গাজীপুরের সফিপুর, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এর ফলে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় নাশকতা ও ভাঙচুর প্রতিরোধে শিল্প পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীদের যোগ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

