সময়পত্র ডেস্ক: ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো আগাম সতর্কবার্তা পায়নি বলে জানিয়েছে কিয়েভ। পাশাপাশি, ট্রাম্প ঘোষিত জ্বালানি খাতের যুদ্ধবিরতি রাশিয়া লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ইউক্রেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রুশ বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কিয়েভে হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনে দুইজন নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘আবারও আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি।’ তবে এবার কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মতে, রাশিয়ার এসব কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্প ঘোষিত জ্বালানি খাতের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা অনুভব করছে না মস্কো।
গত রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলা বন্ধে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছেন তিনি। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে এই পদক্ষেপ সহায়ক হবে বলে যুক্তি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষের সঙ্গেই কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সহায়তা করছি এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করছি।’
বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পাওয়া এবং রুশ সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ—উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইউক্রেন।
রাশিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে জানাবো।’
অন্যদিকে, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে আরও বোমা কেনা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ডিজেল চুক্তি, আমাদের জন্য নয়। এটি বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, আমাদের কাছে নয়।’

