ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে জিয়া উদ্যানে শেষ বিশ্রামের পথে বাংলাদেশী জনতার ঢল নামে, যা দেশের রাজনীতির এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নকে স্মরণ করায়। দেশ ছেড়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের অবিচল পথ, খালেদা জিয়ার জীবনের মূল চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে।
বছরের শুরুতেই বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে চিকিৎসার পাশাপাশি দেশের মাটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেষ কথায় তিনি নিজের ছেলে তারেক রহমানকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেন।
অগণিত মানুষের উপস্থিতি জানিয়ে দেয়, খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির চেয়ারপারসন নন, তিনি দেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তার রাজনৈতিক জীবন, বন্দি জীবন, এবং অসুস্থতার মধ্যেও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
জানাজা শুরু হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্য দিয়ে, যেখানে তিনি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন। এরপর তারেক রহমান নিজের মাতাকে হারানোর শোক প্রকাশ করেন, সাধারণ মানুষের মতো চোখে জল নিয়ে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খতিব মুফতি আবদুল মালেকের নেতৃত্বে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
শেষ সমাহিত স্থলে, জিয়া উদ্যানে, স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়। তোপধ্বনির মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন এবং সরকার ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিরাপত্তার কারণে কেবল সীমিত সংখ্যক মানুষ সমাধিস্থলে উপস্থিত থাকতে পেরেছেন।
জানাজার বাইরে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করে যান, যা দেখিয়েছে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। তার অবদান, রাজনৈতিক সংগ্রাম, এবং দেশের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে থাকবে।

