ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘ প্রায় পনেরো বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে জাতীয় শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেকোনো উসকানির মুখে সংযম ও ধৈর্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। সকাল ১১টা ৩৯ মিনিটে তাঁর বহনকারী বিমান অবতরণ করে। বিমানবন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর দুপুর ১২টা ৪১ মিনিটে তিনি পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দর এলাকা ও পূর্বাচলের বিভিন্ন সড়কে লাখো নেতা–কর্মী জড়ো হন। পথে নেতা–কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দিতে দিতে এগোতে থাকেন তিনি। ফলে সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি।
বিকেলের দিকে পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান। সেখানে বিশাল জনসমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশবিরোধী অপশক্তি ও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী নানাভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মের হাতেই থাকবে। গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এখনই দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দলীয় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না।
সমাবেশে তারেক রহমানের আগে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে নেতা–কর্মীদের উৎসাহিত রাখতে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন। দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মীর অংশগ্রহণে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

