ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা চলছে। আজ সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে রায় ঘোষণা শুরু করেন। এটি জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনার প্রথম বিচারের রায়।
অভিযোগ জমা ও মামলা গঠন:
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ১৪ আগস্ট শহীদ সিয়ামের বাবা বুলবুল ফকির ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দায়ের করেন।
প্রথম অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আরও ৮ জনের বিরুদ্ধে বলা হয়, তাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে নথিভুক্ত করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা:
১৭ অক্টোবর, পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু।
একই দিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি।
১৬ মার্চ, সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
১২ মে, তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
১ জুন, প্রসিকিউশন ১৩৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে, সঙ্গে ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রমাণপত্র।
সাক্ষ্যগ্রহণ:
৩ আগস্ট থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষী তালিকাভুক্ত ছিলেন, যাদের মধ্যে ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া, দেশি ও বিদেশি মিডিয়ায় প্রকাশিত অডিও-ভিডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
যুক্তিতর্ক:
১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু।
২৩ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্য শেষ।
মামলা তিন মাস ১৩ দিনে সম্পন্ন।
আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ:
১. গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া।
২. রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা।
৩. হেলিকপ্টারে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ।
৪. চাঁনখারপুলে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা।
৫. আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর নির্দেশ।
প্রসিকিউশনের অবস্থান:
প্রসিকিউশন দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভিকটিমদের পরিবারে বিতরণের জন্য আবেদন করেছে। প্রসিকিউশন চাইছে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা:
প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম দাবি করেছেন, ট্রাইব্যুনালের বিচার স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রায়ের স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে

