সময়পত্র ডেস্ক: রংপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী কোচের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ মাজার মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী খান এক্সপ্রেসের একটি কোচ মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কোচটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশের এসআই মোয়াজ্জেম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকাজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা অংশ নেন। এ সময় আহত অবস্থায় প্রায় ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে এবং বাকি দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মোজাফফর হোসেন (৩৫)।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. গোপাল চন্দ্র বর্মন জানান, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জনের বেশি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অনেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাটের দুর্গাচরণ এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নজরুল (৩৬), কুঠিপাড়া গ্রামের দুখু মিয়ার স্ত্রী লিপি বেগম (৫০), ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৭), আয়েশা খাতুন (৭), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হাজিপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী দুলালী বেগম (৪৪) এবং রংপুরের পীরগাছার পূর্ব হাগুলিয়া গ্রামের মহসিন আলীর স্ত্রী বুলবুলি বেগম শাহীনা (৪০)।
এ ছাড়া হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাটের পূর্ব আমবাড়ি গ্রামের ফারুক হোসেন (৩২) এবং কুড়িগ্রামের উলিপুরের মহাদেব এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম আপেল (২২)। নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাটের বড়বাড়ি এলাকার ফারুক (৩০)।
চিকিৎসাধীন বুলবুলি বেগম শাহীনা অভিযোগ করে বলেন, ভোরে হাসপাতালে আনা হলেও সকাল ৯টার পর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকের তখনো ব্যান্ডেজ করা হয়নি। চিকিৎসক বা নার্সও সময়মতো আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় লেনের এই মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও নির্ধারিত স্থানের বাইরে যানবাহন পার্কিং বন্ধে পুলিশ চেষ্টা চালায়। অনেক সময় যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক চালক তা অনুসরণ করেন না। এ ছাড়া অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

