সময়পত্র ডেস্ক: অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাবার বিক্রি বন্ধ করতে এবার খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। রাস্তার পাশে পিঠাপুলি ও ভাজাপোড়া বিক্রির দোকান থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভাজাপোড়া বিক্রি করছেন মিজানুর রহমান। সকালে এক স্থানে বসে ব্যবসা করলেও বিকেলে চলে যান অন্য জায়গায়। মিজানুর রহমানের মতো ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলোও নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
তবে কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে, নিবন্ধনের সুবিধা কী এবং নিবন্ধন না করলে কী ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হবে—এসব বিষয়ে অনেক খাদ্য ব্যবসায়ীরই স্পষ্ট ধারণা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি।
নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক প্রবিধান অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ফি পরিশোধের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক এবং বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।
তবে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির দাবি, অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলোর মতো তাঁরাও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ও নির্দেশনা না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বড় ও মাঝারি আকারের স্থায়ী খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অস্থায়ী খাবার বিক্রেতাদেরও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোকে কীভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম ও শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী, দেশে স্থায়ী হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, অস্থায়ী ও অনানুষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে বিপুলসংখ্যক খাদ্য ব্যবসায়ীকে এই নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হলে প্রয়োজন হবে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা।

