সময়পত্র ডেস্ক: ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে বর্তমান জোটের ৬৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা কম।
তবে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো আসনসংখ্যার হিসাবে এগিয়ে থাকলেও তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন সহজ হবে না। কারণ, বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ অবস্থান বজায় রাখলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
বুথফেরত জরিপে এগিয়ে বিরোধী শিবির
ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল—চ্যানেল ১১, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, পরবর্তী নেসেটে নেতানিয়াহুর সমর্থক জোট ৫০ থেকে ৫১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ইহুদি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো পেতে পারে ৫১ থেকে ৫২টি আসন।
অর্থাৎ, কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না। জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাকি ১৮টি আসন যেতে পারে আরব-নেতৃত্বাধীন দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের কাছে।
বর্তমানে নেসেটে দল দুটির আসনসংখ্যা মাত্র ১০। জরিপের পূর্বাভাস বাস্তব হলে পার্লামেন্টে তাদের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিত পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা আরব-নেতৃত্বাধীন দল দুটির সমর্থন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুর মিত্ররা এসব দলকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোও নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধী। ফলে বুথফেরত জরিপের হিসাব অনুযায়ী, নেসেটের মোট ৭০ জন সদস্য নেতানিয়াহুর বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।
কিন্তু ইহুদি-নেতৃত্বাধীন চারটি বিরোধী দলের মধ্যে তিনটি আগেই স্পষ্ট করেছে, তারা আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন করবে না। এ প্রতিশ্রুতি বজায় রাখলে বিরোধী শিবিরের সরকার গঠনের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
লিকুদ সবচেয়ে বড় দল, এগিয়ে থাকতে পারে ইয়াশারও
চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে দেখানো হয়েছে। দলটি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে লিকুদ পেয়েছিল ৩২টি আসন।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসনসংখ্যায় লিকুদের পেছনে থাকলেও বৃহত্তর বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে থাকা দলটি সামগ্রিক জোটগত সমীকরণে এগিয়ে থাকতে পারে।
জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিরোধী দল বিয়াখাদ তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। দলটি ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে। আরব-নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১১টি আসন।
বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ৯ থেকে ১০টি। ইসরায়েল বেইতেনু পেতে পারে ৭ থেকে ৮টি আসন। আরব-নেতৃত্বাধীন রা’আমের ঝুলিতে যেতে পারে ৭টি আসন।
অতি-রক্ষণশীল সেফারদি ইহুদিদের দল শাস পেতে পারে ৬ থেকে ৮টি আসন। একই ধারার আশকেনাজি অতি-রক্ষণশীলদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম পেতে পারে ৬ থেকে ৭টি আসন।
উগ্র ডানপন্থি ওতজমা ইয়েহুদিত পার্টি ৬ থেকে ৭টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ৬টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আরও তিনটি দল নির্বাচনে আলোচনায় থাকলেও ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে পারবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলগুলো হলো ডানপন্থি পিপল অব ইসরায়েল, মধ্য-ডানপন্থি রিজার্ভিস্টস এবং অতি-রক্ষণশীল হারেদি পাবলিক পার্টি।
তবে অন্য তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জন্য তুলনামূলক ভালো ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সরকারপন্থি হিসেবে পরিচিত চ্যানেল ১৪-এর জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৬২টি আসন পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪০ এবং আরব দলগুলোর ১৮টি।
নেতানিয়াহুপন্থি আই-২৪ নিউজের জরিপে তাঁর জোটের আসনসংখ্যা ৫৫, বিরোধী জোটের ৪৯ এবং আরব দলগুলোর ১৬টি দেখানো হয়েছে। নতুন টেলিভিশন চ্যানেল ১৬-এর জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩, বিরোধীরা ৫১ এবং আরব দলগুলো ১৬টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভোট বাড়লেও নিজ শিবিরে সমর্থন হারানোর ইঙ্গিত
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, ২০২২ সালের নির্বাচনে ৬৪টি আসন পাওয়া নেতানিয়াহুর জোট এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সমস্যায় পড়তে পারে।
নির্বাচনের আগের কয়েক সপ্তাহ এবং শেষ দিনগুলোতে নেতানিয়াহু ক্রমেই কঠোর বক্তব্য দিতে থাকেন। নির্বাচনে পরাজিত হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নেতানিয়াহুর এই আশঙ্কানির্ভর প্রচার তাঁর ভোট বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, বাড়তি সমর্থন এলেও নিজের জোটের অন্য দলগুলোর আসন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর জরিপের ফলাফল নির্বাচনের আগের অধিকাংশ জনমত জরিপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব জরিপেও কোনো পক্ষের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখা যায়নি। তবে আসনসংখ্যার হিসাবে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির সামান্য এগিয়ে রয়েছে।
সরকার গঠনে বিরোধীদের সামনে কঠিন সমীকরণ
বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পরপরই ফলাফলকে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন গাদি আইজেনকোট।
তিনি বলেন, ‘এটি জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং ইসরায়েলের অধিকাংশ নাগরিকের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহু ও ৭ অক্টোবরের সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে চালানো হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন। নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়েই ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আইজেনকোট লেখেন, ‘যদি এটাই চূড়ান্ত ফলাফল হয়, তাহলে এটি ইসরায়েলের দায়িত্বশীল জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠের বিজয়।’
তিনি জনগণের রায় বাস্তবায়ন, নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং যত দ্রুত সম্ভব সর্বজনীন সামরিক নিয়োগের নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি জায়নবাদী সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন।
তবে এই লক্ষ্য কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন আইজেনকোট। এ ক্ষেত্রে জয়েন্ট লিস্ট বা রা’আম—একটি কিংবা উভয় দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিকল্প হিসেবে নতুন সরকারের ওপর আস্থা ভোটের সময় দল দুটির সদস্যদের ভোটদানে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হতে পারে। তাতে অল্প ব্যবধানে সরকার গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।
কিন্তু ইসরায়েল বেইতেনুর চেয়ারম্যান আভিগদর লিবারম্যান এবং বিয়াখাদের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁরা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করবেন না। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হলে তাঁদের সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হতে পারে।
অবশ্য ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রা’আমকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত স্বল্পস্থায়ী সরকারে দুজনই ছিলেন।
আইজেনকোটও বিভিন্ন সময়ে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে ফিলিস্তিনপন্থি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত জয়েন্ট লিস্ট এবং তুলনামূলক মধ্যপন্থি রা’আমের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দুই শিবিরের দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। তবে বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহু কিংবা অতি-রক্ষণশীল দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে এ পথেও সমঝোতা কঠিন হতে পারে।
পরিবর্তনের সরকার গঠনের আহ্বান ডেমোক্র্যাটস পার্টির
বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, সরকার গঠনের জন্য তাঁর দল সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
যদিও পোস্টে তিনি সরাসরি আরব দলগুলোর কথা উল্লেখ করেননি, নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিকবার রা’আমের সঙ্গে জোট গঠনে তাঁর দলের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
গোলান আরও লেখেন, ‘জনগণ কথা বলেছে, তারা নেতানিয়াহু সরকারকে বরখাস্ত করেছে।’
তাঁর ভাষ্য, ‘ইসরায়েলে পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠার এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, আর আমরা সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘বিভাজন দূর করতে এবং দায়িত্ব নিতে আমরা আমাদের সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এখন কাজ করার পালা আমাদের।’
আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উচ্ছ্বাস, সমর্থন নিয়ে দর-কষাকষির ইঙ্গিত
নেসেটে নজিরবিহীন সংখ্যক আসন পাওয়ার পূর্বাভাসে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। রা’আমের প্রধান মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দুই শিবিরের প্রতিনিধিরাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, ‘সবাই আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, শুধু পরিবর্তনপন্থি জোট নয়।’ তাঁর এ বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নেতানিয়াহুর সমর্থক শিবিরের প্রতিনিধিরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন আব্বাস। তবে এমন একটি জোট বাস্তবে সরকার গঠনের মতো সমর্থন পাবে কি না, তা আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আব্বাস স্বীকার করেন, ‘বর্তমানে সরকার গঠনের মতো আসনসংখ্যা নেই।’ বুথফেরত জরিপে জায়নবাদী বিরোধী দলগুলোর ৫২টি এবং রা’আমের ৭টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ৫৯, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে দুটি কম।
অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টের সদর দপ্তরে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দলটির সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়। প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বুথফেরত জরিপে দলটি ১০ থেকে ১১টি আসন পেতে পারে—এমন পূর্বাভাস আসার পর সমর্থকেরা করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এ সময় আরবি ভাষায় ‘বেন গভির, চলে যাও’ স্লোগানও শোনা যায়। দলটির চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিনসহ অন্যান্য আইনপ্রণেতা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন নেতারাও উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগানে যোগ দেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে জাবারিন বলেন, তাঁর দল আশা করছে, তারা নেতানিয়াহু, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ এবং ‘রক্তমাখা সরকারকে’ বিদায় জানাতে পারবে।
চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষা, আবারও নির্বাচন হতে পারে
রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের নেতারা সমর্থকদের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত থেকে বুধবারের মধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এবারের নির্বাচনে গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। ৭৭ শতাংশেরও বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি রাতভর ভোট গণনা করে ধাপে ধাপে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করবে।
অতীতে বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য দেখা গেছে। ফলে এবারের পূর্বাভাসও পুরোপুরি চূড়ান্ত ফলের প্রতিফলন নাও হতে পারে। তবে জরিপের হিসাব বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনের পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুজনই সরকার গঠনের সুযোগ চেয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে যেতে পারেন। সাধারণত প্রেসিডেন্ট সেই প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন, যাঁর পক্ষে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বেশি।
কোনো প্রার্থীই সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।
২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একই ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েলে পাঁচবার নির্বাচন আয়োজন করতে হয়েছিল। ওই সময়ের বড় একটি অংশে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নেতানিয়াহু।
তাই এবারের নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে বিরোধী শিবির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে দেশটি নতুন সরকার পাবে কি না।

