সময়পত্র ডেস্ক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সাহাজুল ইসলাম (৩২) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে রাখা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্তসংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাহাজুল উপজেলার জামালপুর গ্রামের সাহাবাজের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছ ধরতে যান সাহাজুল ইসলাম। এ সময় সীমান্ত এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ ঘটনার জেরে বিএসএফ সদস্যরা সাহাজুলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে তাঁর পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে ও ক্ষোভের কারণে সীমান্তবর্তী মাঠে কাজ করা বাংলাদেশি কৃষকরা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন।
বিএসএফের এ অনাকাঙ্ক্ষিত গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা সতর্কতামূলকভাবে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাইফুল ইসলাম জানান, নদীতে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালান। এতে সাহাজুল আহত হওয়ার পর সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও আটক ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে সীমান্ত প্রটোকল এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বিজিবির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

