সময়পত্র ডেস্ক: ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপনে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশে তাকে নির্ধারিত উড়োজাহাজ থেকে সরিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মেনে চলাই তার দায়িত্ব। তাই তারা যখন অন্য একটি ফ্লাইট ও বিমানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি সেটিই অনুসরণ করেছেন।
এর আগে গত ৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে প্রথমে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে তাকে গোপনে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন ওঠে, সম্ভাব্য হামলা এড়াতে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ব্যবহার করা হলে ওই বিমানে থাকা সাংবাদিক ও অন্যান্য আরোহীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল কি না।
তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শেষ পর্যন্ত যে সামরিক বিমানে তিনি ওঠেন, সেটিই বরং বেশি ঝুঁকির মধ্যে ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করা হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে পুরো পরিকল্পনাটি এতটাই গোপন রাখা হয় যে বিমানে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাও বিষয়টি জানতেন না।
এর আগে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু’ ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও ট্রাম্প বলেন, ওই সময় হুমকি ছিল বলে তিনি মনে করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত অনুসন্ধান করেননি। প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি এমন অনেক হুমকির মুখোমুখি হন, যেগুলোর খবর সাধারণ মানুষ জানতে পারেন না।

