নিজস্ব প্রতিনিধি:, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে কয়েক মাস ধরেই সরগরম ছিল মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৯ ভোটের রাজনৈতিক মাঠ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিতির মাধ্যমে চলছিল নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার প্রতিযোগিতা। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন সামনে আসতেই সেই দৌড়ে যেন হঠাৎ ব্রেক কষেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই এখন প্রচারণার চেয়ে আইনি যোগ্যতার হিসাব মেলাতেই বেশি মনোযোগী।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রুলের পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও রুলটি কোনো চূড়ান্ত রায় নয় এবং এখনো কারও প্রার্থিতা বাতিলের প্রশ্নও ওঠেনি, তবু এর প্রভাব পড়েছে সিংগাইরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। বিশেষ করে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় প্রচার-প্রচারণা কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি।
মাঠপর্যায়ের তথ্য থেকে জানা যায়, সিংগাইর পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন। সে হিসাব অনুযায়ী সিংগাইর পৌরসভায় ৮ জন, বায়রায় ৪, জামসায় ৭, বলধারায় ৭, তালেবপুরে ৫, সিংগাইর সদরে ৩, চারিগ্রামে ৪, সায়েস্তায় ৬, চান্দহরে ৬, জয়মন্টপে ৪, জামির্ত্তায় ৬ এবং ধল্লায় ৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তৎপরতা রয়েছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৬ জন।
তবে এ সংখ্যা কোনো দলীয় বা সরকারি চূড়ান্ত তালিকা নয়। মাঠে সক্রিয় সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের স্থানীয় হিসাব এটি। ফলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের পর এ সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন সামনে আসার পর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে যাদের শিক্ষাগত সনদ বা যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো শেষ পর্যন্ত আইনগত যোগ্যতার মানদন্ডে তারা টিকে থাকবেন তো?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী অবশ্য বলছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাগত সনদকে একমাত্র মাপকাঠি করা উচিত নয়। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও এলাকার মানুষের আস্থাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তবে সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ বলছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিনিধি নন, তিনি স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি। বাজেট প্রণয়ন, সরকারি নথিপত্র, উন্নয়ন প্রকল্প, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন আইন-কানুনের সঙ্গে চেয়ারম্যানদের নিয়মিতভাবে কাজ করতে হয়। তাই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিতর্কের পাশাপাশি সিংগাইরের নির্বাচনী মাঠে রয়েছে রাজনৈতিক আরেক সমীকরণ। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় নন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মামলা-মোকদ্দমা ও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাদের অনেকে মাঠের বাইরে রয়েছেন।
এদিকে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং আইনগত কোনো বাধা না থাকলে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের কেউ কেউ আবার নির্বাচনী মাঠে ফিরতে পারেন বলে অনেকেই ধারনা করছেন।
সিংগাইরের নির্বাচনী মাঠে তাই একসঙ্গে চলছে কয়েকটি হিসাব। দলীয় মনোনয়ন, জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যোগ হয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্ন। ফলে এতদিন ধরে যারা মাঠ গুছিয়েছেন, তাদের অনেকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয় হলো শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনগত সুযোগ থাকবে কি না।
তবে হাইকোর্টের রুলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীকে যোগ্য বা অযোগ্য বলারও সুযোগ নেই।
তারপরও রাজনৈতিক বাস্তবতায় রুলের প্রভাব স্পষ্ট। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই আগের মতো প্রকাশ্যে প্রচারণা চালানোর পরিবর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অপেক্ষার মনোভাব।
সিংগাইরের রাজনীতিতে জনসমর্থন ও রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার নতুন কোনো মানদন্ড যুক্ত হলে বদলে যাবে কি পুরো নির্বাচনী সমীকরণ। তবে সিদ্ধান্ত আসার আগেই শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় যে ভাটা পড়েছে, তাতে সিংগাইরের নির্বাচনী মাঠে নতুন এক অনিশ্চয়তার সূচনা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রশ্নে থমকে গেছে সিংগাইরে নির্বাচনী প্রচারণা
Dainik Somoy Potro
দৈনিক সময় পত্র - একটি বিশ্বস্ত অনলাইন সংবাদমাধ্যম। সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে সময়োপযোগী খবর পৌঁছে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ গল্পগুলো তুলে ধরে আমরা প্রতিদিন আপনাকে সচেতন, সংযুক্ত ও আপডেট রাখি।
একটি মন্তব্য যোগ করুন
অনুসরণ করুন
সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম সাবিহা জামান
নির্বাহী সম্পাদক : জাভেদ ওমর বেলিম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ সাইফুল ইসলাম (তানভীর)
অফিস: বিজয় রাকিন সিটি, ৪–৫, কমার্শিয়াল বিল্ডিং, মিরপুর-১৫, ঢাকা-১২১৬। মোবাইল: ০১৮৯৬-২৭৬৭৩১
স্বত্ব © ২০২৬ দৈনিক সময়পত্র
Developed by ZAMAN IT

