সময়পত্র ডেস্ক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এ নিয়ে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ বিষয়ে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দাবি, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নতুন হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানান আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইরানে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এক ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিড, তেল শোধনাগার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন নেটওয়ার্ক ও তেলক্ষেত্রেও হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারির পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত, আলোচনায় ফিরে যাওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছে।
তবে সৌদি আরব একই সঙ্গে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের হুঁশিয়ারির পেছনে ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই হামলার পর দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তেহরানের ধারণা, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরব মিত্রদের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর চাপ তৈরি করতে পারে।
এর আগে গত ২ আগস্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে তিনি রাজি হয়েছেন। তবে আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমন কোনো সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ, যেটিকে ইরান নিজেদের বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।
ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

