সময়পত্র ডেস্ক: ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছে ইরান—এমন দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই জানান, ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার পর সেই অভিযান আর চালানো হয়নি।
রেজাইয়ের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে ইউক্রেন কী বিষয়ে এবং কীভাবে ক্ষমা চেয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও হুঁশিয়ারি
সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর বার্তা দেন রেজাই। তিনি বলেন, ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে অন্য কোনো রুট ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
কোনো বৈরী সামরিক জাহাজ নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেন রেজাই। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি।
ক্যাস্পিয়ান সাগরে জাহাজে হামলার অভিযোগ
এর আগে ২৫ জুলাই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ ওঠে। তেহরানের দাবি, ক্যাস্পিয়ান সাগরে ওই হামলায় জাহাজটির এক ক্রু নিহত হন।
এর পর থেকেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির তিনটি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন রেজাই।
তবে ইউক্রেনের কথিত ক্ষমা চাওয়া এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের হামলা বাতিলের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কোন তিনটি স্থাপনা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ইউক্রেন ঠিক কী ধরনের ক্ষমা চেয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

