সময়পত্র ডেস্ক: পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইন দেখতে যাওয়া পর্যটকদের বহনকারী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পর্যটক এবং দুজন পাইলট রয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিহত পর্যটকদের মধ্যে সাতজন ইতালির, দুজন জার্মানির এবং দুজন স্পেনের নাগরিক ছিলেন।
স্থানীয় সময় শনিবার পিসকো বিমানবন্দর থেকে সেসনা ক্যারাভান সি-২০৮ মডেলের বিমানটি নাজকা লাইন দেখানোর উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। পরে পুয়েবলো ভিয়েহো এলাকায় বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানের কোনো আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিওতে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে নাসকা প্রাদেশিক পৌর কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তারা।
দক্ষিণ পেরুর মরুভূমিতে অবস্থিত নাজকা লাইন বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মরুভূমির মাটিতে আঁকা বিশাল আকারের বিভিন্ন প্রাণী ও জ্যামিতিক আকৃতির এসব নকশা ভূমি থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। আকাশ থেকেই এগুলোর পূর্ণ অবয়ব সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। এ কারণেই পর্যটকদের মধ্যে ছোট বিমানে নাজকা লাইন পরিদর্শনের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
তবে এই এলাকায় বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হন। এর আগে ২০১০ সালেও একই এলাকায় আরেকটি বিমান দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

