সময়পত্র ডেস্ক: বিশ্বকাপে খেলোয়াড় সরবরাহকারী ক্লাবগুলোর জন্য ফিফার ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম (সিবিপি) থেকে এবারও সর্বোচ্চ অর্থ পেতে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ আয়কারী ক্লাব হতে যাচ্ছে সিটি।
২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার ক্লাবগুলোর জন্য রেকর্ড ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দ করেছে ফিফা। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে যেখানে মোট বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, এবার সেই অঙ্ক প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
মোট বরাদ্দের মধ্যে ২৫ কোটি ডলার মূল পর্বে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর জন্য রাখা হয়েছে ১০ কোটি ডলার। বাকি ৫০ লাখ ডলার প্রশাসনিক ব্যয় ও ফুটবলের উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দ থাকবে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে সংশ্লিষ্ট জাতীয় দলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য ক্লাবগুলো দৈনিক গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার করে পাবে। এই হিসাবে শুধু মূল পর্ব থেকেই ম্যানচেস্টার সিটির আয় প্রায় ৪৪ লাখ ডলার হতে পারে।
সিটির ছয়জন ফুটবলার টুর্নামেন্টের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন মার্ক গেহি, নিকো ও’রাইলি, জন স্টোনস, জেমস ট্রাফোর্ড ও রায়ান শেরকি। আর বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের হয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন রদ্রি।
আয়ের তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির পরেই রয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা। ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করবে আর্সেনাল। এছাড়া ১২ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে পাঠিয়ে চমক দেখিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেস ও সান্ডারল্যান্ড। ক্রিস্টাল প্যালেস পাবে প্রায় ২৭ লাখ ডলার এবং সান্ডারল্যান্ড পাবে প্রায় ২২ লাখ ডলার।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশই ছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়। ফলে ফিফার ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থও পাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। এ খাতে তাদের মোট প্রাপ্তি প্রায় ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলো পাবে প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
তবে বিশাল অঙ্কের এই প্রণোদনাও ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর বার্ষিক ব্যয়ের তুলনায় খুব বেশি নয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৪–২৫ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ ব্যয় ছিল প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় ফিফার দেওয়া প্রায় ৪৪ লাখ ডলারের প্রণোদনা ক্লাবটির মোট ব্যয়ের একটি ছোট অংশ মাত্র।

