সময়পত্র ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রথম বার্ষিকীতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মচারীদের স্মরণে শ্রদ্ধা, দোয়া ও স্মৃতিচারণার আয়োজন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
সকালে হায়দার আলী ভবনের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিবেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) নুরন্নবী বলেন, এক বছর পরও সেই দিনের শোক সবাইকে ভারাক্রান্ত করে রাখে। বিকেলে নিহতদের স্বজনদের নিয়ে পৃথক স্মরণানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো এলাকা আগুনে ছেয়ে যায়। শিশুদের আর্তচিৎকার শুনে উদ্ধারকাজে এগিয়ে গেলেও আগুনের তীব্রতায় বারবার পিছিয়ে আসতে হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষক মাহরীন চৌধুরী নিজের শরীরে আগুন লাগা অবস্থাতেও কয়েকজন শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ও তার পরিবার মানসিক আঘাতের মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে বিমানের শব্দ শুনলেই আতঙ্ক ফিরে আসত। ধীরে ধীরে কাউন্সেলিং ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সেই ট্রমা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তারা।
শিক্ষক ফারজানা কাবেরী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, দুর্ঘটনার দিন সকালে এক শিক্ষার্থী কোনো কারণ ছাড়াই এসে তাকে জড়িয়ে ধরেছিল। তিনি জানতে চেয়েছিলেন কিছু বলবে কি না। শিশুটি শুধু বলেছিল, ‘এমনিই’। পরে সেই শিক্ষার্থী আর জীবিত ফিরে আসেনি।
সেদিনের বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চারদিকে আগুনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা তাকে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিল। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় নিরাপদে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
গত বছরের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ২৮ শিক্ষার্থী, ৩ শিক্ষক, ৩ অভিভাবক, ১ জন আয়া এবং যুদ্ধবিমানের পাইলটসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। এছাড়া আহত হন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেককে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটিই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। পাশাপাশি ভবনটি অনুমোদিত বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালনার সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিশন।

