ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল উঠেছে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রির হাতে। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে তিনি কোনো গোল করেননি, এমনকি একটি অ্যাসিস্টও নেই। তাই অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনেই প্রশ্ন উঠেছে—গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেন এই স্প্যানিশ তারকা?
বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, খেলার গতি নির্ধারণ, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তিনি নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। মাঠে তার উপস্থিতিই স্পেনের খেলায় ভারসাম্য এনে দিয়েছে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। পুরো টুর্নামেন্টে দলটির কৌশল বাস্তবায়নের অন্যতম ভিত্তি ছিলেন রদ্রি। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন মাঝমাঠের মূল নিয়ন্ত্রক, যার ওপর নির্ভর করেই দল আক্রমণ গড়েছে এবং প্রতিপক্ষের চাপ সামলেছে।
পরিসংখ্যানেও রদ্রির আধিপত্য স্পষ্ট। বিশ্বকাপে তিনি আট ম্যাচে ৬৫০টির বেশি সফল পাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বল পুনরুদ্ধার, প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো এবং উচ্চগতির দৌড়ে (হাই-ইনটেনসিটি রান)ও ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। তার কার্যকর উপস্থিতির কারণেই পুরো আসরে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে।
গোল্ডেন বল নির্ধারণে শুধু গোল বা অ্যাসিস্ট নয়, একজন ফুটবলারের সামগ্রিক প্রভাব, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, ধারাবাহিকতা, নেতৃত্ব এবং দলীয় সাফল্যে অবদানও বিবেচনা করা হয়। সেই দিক থেকে রদ্রি বিচারকদের কাছে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তবে স্পেনের শিরোপা জয়ের পথে রদ্রির অসাধারণ অবদান, মাঝমাঠে তার আধিপত্য এবং পুরো আসরে ধারাবাহিক নৈপুণ্যই শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান এনে দিয়েছে।
রদ্রির এই অর্জন আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের মূল্য শুধু গোল বা অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ নয়; অনেক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও দলকে সফল করার নেপথ্য ভূমিকাই একজনকে সেরার আসনে বসিয়ে দেয়।

