সময়পত্র ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দীর্ঘদিনের তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মধ্যেই এবার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থা, অন্যদিকে জুন মাসে অনেকের বিদ্যুৎ বিল মে মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আসায় জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উদ্বেগে রয়েছেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত রাখার পরও জুন মাসে তাদের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ কারণে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে অভিযোগকারীদের ভিড়ও বেড়েছে।
জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বকেয়া বিলের কারণে ৭ থেকে ১০ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। অনেক সময় এরও কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ধল্লা গ্রামের অটোরিকশাচালক মহিদুর রহমান বলেন, “গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৯০০ টাকা। এবার এসেছে ১ হাজার ৭০০ টাকা।”
এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও সিংগাইর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জায়গীর গ্রামের মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে রুমে বসে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
মেদুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, মে মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার টাকা, যা জুন মাসে বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। একই গ্রামের তার বড় ভাইয়ের বিলও ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫৬ টাকায়।
সিংগাইর পৌর সদরের বাসিন্দা স্থানীয় সাংবাদিক রকিবুল হাসান বিশ্বাস বলেন, “মে মাসে আমার বিল ছিল ৮৪৭ টাকা। জুন মাসে এসেছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা।”
সাবেক পৌর কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী রিপন আক্তার ফজলু বলেন, “আমার ভবনের ১৭ জন ভাড়াটিয়ার অধিকাংশই দিনের বেলায় বাসায় থাকেন না। তারপরও প্রায় সবার বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে। আমার নিজের বিলও ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। বিষয়টি জোনাল অফিসের ডিজিএমকে জানিয়েছি।”
কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে।”
এ বিষয়ে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, সাধারণত ৩০ দিন পরপর মিটার রিডিং নিয়ে বিল প্রস্তুত করা হয়। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মে মাসে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিল প্রস্তুত করতে হয়েছিল। ফলে মে মাসে তুলনামূলক কম ইউনিটের বিল করা হয়। অবশিষ্ট ইউনিট জুন মাসের বিলে যুক্ত হওয়ায় অনেক গ্রাহকের বিল বেশি এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফের প্রভাবও বিলে পড়েছে। এছাড়া কোনো গ্রাহকের মিটার রিডিংয়ে ভুল হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তা যাচাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

