নিজস্ব প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের অভিযোগে আটকে পড়া ৯ জন ব্যক্তি ২৬ ঘণ্টা পার হলেও এখনও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং বড়াইবাড়ী ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, একজন নারী এবং দুটি শিশু রয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতেও অস্বীকৃতি জানায়।
অন্যদিকে বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসারে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফেরত নেওয়ার জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা সীমান্তের শূন্যরেখাতেই অবস্থান করছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার জালুরচর এলাকার বিএসএফ সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সতর্ক অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেন।
জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নারী, শিশু ও পুরুষসহ ৯ জনকে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

