সময়পত্র ডেস্ক: গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এস বি পরিবহনের একটি ঢাকাগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। তবে ফেরিতে ওঠার আগে বাসে থাকা ৩৭ জন যাত্রীর সবাইকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এস বি পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় পন্টুন থেকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সোজা নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় বাসে কোনো যাত্রী না থাকলেও চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার ভেতরে ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রেনের সাহায্যে বাস উদ্ধারের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে নদীগর্ভ থেকে বাসটি সম্পূর্ণ উদ্ধার করা হয়।
বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, তারা পরিবারসহ কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ঘাটে পৌঁছে নিয়ম অনুযায়ী বাস থেকে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাসটি নদীতে পড়ে যায়। তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই বেঁচে গেছি। একটু দেরি হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ একই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

