সময়পত্র ডেস্ক: প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-এর বাকি অংশের নির্মাণকাজ। একই সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েটিকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে নতুন চারটি র্যাম্প যুক্ত করার সম্ভাবনাও যাচাই করছে সেতু বিভাগ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ চালু করা হয়। পরে ২০২৪ সালে কারওয়ান বাজার র্যাম্পও চালু হয়। তবে যানজট কমানোর লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে পিক আওয়ারে টোলপ্লাজাগুলোতেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে এই ধীরগতি তৈরি হচ্ছে। যদিও চলতি বছরের এপ্রিলে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু হয়েছে, এখনো বেশিরভাগ টোল আদায় হচ্ছে হাতে-কলমে।
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার গাড়ি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছে। তবে টোলপ্লাজার ভোগান্তির কারণে অনেক চালক এই সড়ক ব্যবহার থেকে সরে যাচ্ছেন, ফলে সম্ভাব্য রাজস্বও কমে যাচ্ছে।
প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে নির্মিত। চুক্তি অনুযায়ী, চালুর পর প্রথম ২৫ বছর প্রতিদিন ৮০ হাজার গাড়ির টোল পাবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এর বেশি হলে অতিরিক্ত আয়ের ২৫ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব কম দিনই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন র্যাম্প যুক্ত হলে যানবাহনের চাপ কমবে এবং ব্যবহার বাড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মূল নকশায় পরিবর্তন আনলে প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময় বাড়তে পারে। তাই নতুন সংযোগ ও অবকাঠামোর সক্ষমতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

