ডেস্ক রিপোর্ট:
বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং দি একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ঔষধ শিল্পের সহযোগী প্রতিষ্ঠান দি প্লাস্টিসিটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান।
শনিবার (১৬ মে) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ নোভেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন একমি গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাঁর কন্যা তাসনিম সিনহা।
মরহুম মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
শোকবার্তায় মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “মিজানুর রহমান সিনহা ছিলেন একজন দূরদর্শী শিল্প উদ্যোক্তা, দক্ষ সংগঠক ও জনবান্ধব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দেশের শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মিজানুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের শিল্প ও রাজনীতির অঙ্গনে একটি সুপরিচিত ও সম্মানিত নাম। তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি থেকে তাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন আসে।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপকে নেতৃত্ব দিয়ে এটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এছাড়া মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। পরবর্তী সময়ে দলীয় পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তিনি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিল্প অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

