মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। তেলনীতি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, যুদ্ধরাজনীতি এবং নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের শিকড় অনেক পুরোনো। ১৯৫০-এর দশকের ‘বুরাইমি বিরোধ’ থেকে শুরু করে বর্তমান জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা—দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস দীর্ঘদিনের। সেই পুরোনো দ্বন্দ্ব এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান–এর নেতৃত্বে।
বর্তমানে বিরোধের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তেলনীতি। সম্প্রতি ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, ওপেক এর অন্যতম সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবি জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন আরও বেশি তেল উৎপাদন করবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৌদি আরবের প্রভাব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। অন্যদিকে আমিরাত দ্রুত বেশি তেল বিক্রি করে তাৎক্ষণিক মুনাফা অর্জনের কৌশল নিয়েছে। এই ভিন্ন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে।
শুধু তেল নয়, আঞ্চলিক রাজনীতিতেও দুই দেশ এখন ভিন্ন পথে হাঁটছে। সুদান, ইয়েমেন ও লিবিয়ার মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সৌদি আরব ও আমিরাত আলাদা পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। এমনকি ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাতেও তাদের অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট রাষ্ট্র হলেও আমিরাত এখন বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্বাধীন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চায়।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তেলের বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই অনুভূত হতে পারে।

