
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিংগাইর:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রধান সহকারী (কাম) হিসাবরক্ষক কামরুল হাসান। তার বিরুদ্ধে এবার উঠেছে ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা এবং ভুক্তভোগীকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ। বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও কামরুল হাসানের বহাল তবিয়তে থাকা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অভিযোগে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪র্থ শ্রেণির প্রয়াত কর্মচারী সুফিয়া খাতুনের মেয়ে আরিফার কাছ থেকে পেনশনের টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন কামরুল। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আরিফা তার টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এ ঘটনায় গত ৪ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল বিন ইউসুফ। অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী সার্জন ডা. মো. শরিফুল ইসলাম এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি এখনো তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কামরুল হাসান। এমনকি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তিনি ঘুষ ও প্রতারণার দায় স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযুক্ত কামরুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. ফয়সাল বিন ইউসুফ বলেন, “আপনি অফিসে আসুন, আপনার যত তথ্য প্রয়োজন, আমরা দেব।”
অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাফসান রেজা জানান, “অভিযোগকারী তার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তদন্ত কমিটি কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।”
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ দায়ের হলে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী হয়ে ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর তিনি সিংগাইরে যোগদান করেন।
সিংগাইরে যোগদানের পরও থেমে থাকেননি বিতর্ক। যোগদানের পরপরই ১২ জন নার্সের বেতন নির্ধারণের নামে ৪৮ হাজার টাকা এবং এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বদলির তদবিরে ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া সরকারি কোয়ার্টারে বিনা ভাড়ায় বসবাসের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এবার নতুন করে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কামরুল হাসান।
