নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার বিধান বহাল রেখে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। পরে সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
এর ফলে, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকারি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হতে পারবে।
অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিষেধাজ্ঞা
নতুন আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দল বা সংগঠনের কার্যক্রম অনলাইন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা প্রসারেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
এ ছাড়া, নিষিদ্ধ সংগঠন বা দলকে অর্থ, আশ্রয়, লজিস্টিক সহায়তা বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন
এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)–এর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।
পটভূমি
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনে একটি অধ্যাদেশ জারি করে।
তখন সংসদ কার্যকর না থাকায়, সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া ক্ষমতাবলে ওই অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে জাতীয় সংসদ কার্যকর হওয়ায় অধ্যাদেশটিকে আইনগত বৈধতা দিতে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হলো।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা
এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম, ডিজিটাল প্রচারণা এবং সংগঠনভিত্তিক অর্থায়ন—এই তিনটি ক্ষেত্র এখন নতুন আইনের আওতায় আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষিত হবে।

