ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ৩২তম দিনে এসে কিছুটা নরম সুরে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না গেলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ করার বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন আগের তুলনায় বেশি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে কৌশলগত হিসাব-নিকাশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ বিবেচনায় রেখে সামরিক অভিযানের একটি ‘সমাপ্তি কৌশল’ নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
তবে এমন অবস্থান কার্যত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব আরও কিছু সময় বহাল রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে জলপথটিতে সীমিত পরিসরে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি এখনো বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বৈশ্বিক তেলবাজারে চাপ থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি ‘যথেষ্ট’ রয়েছে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল বাড়ছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রুটে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, অতিরিক্ত সরবরাহ বাজারের জন্য অবশ্যই সহায়ক হবে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি ও বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের প্রবাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।
এদিকে, চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজকে ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

