দেশের তরুণ-তরুণীরা যে খেলায় ভালো করবে, ভবিষ্যতে তারা সেই খেলাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে বলেজানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন বা শখের জায়গায় না রেখে এটিকে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়াকার্ড প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শরীরচর্চা, বিনোদন বা অবসরের বিষয় নয়; বরং এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। যেমন হিসাবরক্ষণ, প্রকৌশল বা আইন পেশা হিসেবে স্বীকৃত, তেমনি খেলাধুলাও ধীরে ধীরে পেশাগত মর্যাদা অর্জন করছে। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশও এ দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে পারে না।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা খেলায় দক্ষতা দেখাবে এবং যে খেলায় স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দ খুঁজে পাবে, তারা যেন ভবিষ্যতে সেটিকে পেশা হিসেবে নিতে পারে—সরকার সেই পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।
তারেক রহমান জানান, খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রথমবারের মতো একটি নির্দিষ্ট সম্মানী কাঠামো চালু করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই এই পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল, আর এখন তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার দেশের ক্রীড়াবিদদের একটি আনুষ্ঠানিক আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকারের নজর শুধু ক্রিকেট বা ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যান্য খেলাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম শুরু হবে, যা পরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে সাতটি খেলা নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ধাপে ধাপে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করা, যারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা আগামী দিনে আরও বেশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে এবং বাংলাদেশের সম্মান বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল করবে।

