বকুল হাসান খাঁন : বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর মুঠোয় মুঠোয় আমলকি খেতেন। তার লেখার টেবিলে প্রায় সব সময় বারকোশ (এক প্রকার পাত্র) ভর্তি আমলকী থাকত। অতীতে আমলকীর যে কদর ছিল এখন সে কদর আর নেই। শুধু কদর নেই বললে কম বলা হবে। ফলটিই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা যেসব ফল খাচ্ছি এর বেশিরভাগ বিষাক্ত কেমিকেল মেশানো, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ফল পাকানো ও ফলে চটক বাড়ানোর জন্যই এই বিষাক্ত কেমিকেল মেশানো হয়ে থাকে। আর এগুলোই আমরা প্রতিনিয়ত খেয়ে যাচ্ছি কেউ জেনে, কেউ না জেনে।
আর খাদ্যপ্রাণে ভরা গোলাকৃতির আমলকী ফল আমরা কেউ খাই না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ফলটিকে চেনে না। অথচ এক সময় আমাদের সবার কাছেই আমলকী ঔষধি ফল হিসেবে সুপরিচিত ছিল এবং এদেশের সর্বত্রই এই গাছ দেখা যেত। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও সিলেট অঞ্চলে এটি বেশি জন্মাত। আজো জন্মে, তবে অতীতের তুলনায় খুবই কম। অথচ পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণে ভরা এই অবহেলিত ফলটির উপকারের কথা বলে শেষ করা যাবে না।
পুষ্টি ও খাদ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম আমলকীতে ভিটামিন সি ৪৬৩ মিলিগ্রাম, শর্করা ১৬.২ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০৭ গ্রাম, আঁশ ৩.৪ গ্রাম, খাদ্যমক্তি ৭০ কিলোক্যালোরি, ক্যালসিয়াম ২২ মিলিগ্রাম, লৌহ ৩.১ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘বি-১’-এ ০.০৩ মিলিগ্রাম রয়েছে। ভিটামিন সি পরিমাণে বেশি আছে বলেই আমলকীকে ভিটামিন ‘সি’র রাজা বলা হয়।
আমলকীর রয়েছে প্রচুর ঔষধিগুণ। আমলকীর রস যকৃত, পেটেরপীড়া, হাঁপানি, কাশি, জণ্ডিস, বহুমূত্র, অজীর্ণ ও জ্বর নিরাময়ে উপকারী। আমলকীর পাতার রস আমাশয় প্রতিষেধক ও বলকারক। চর্মরোগের চিকিৎসায়ও এ ফল ব্যবহার করা হয়। দৃষ্টিশক্তি ও হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং বমি নিবারণের জন্য এ ফল হিতকর। তদুপরি চুলের যে কোনো সমস্যা তথা চুল পাকা, চুল ওঠা ও চুলের গোড়া নরম হওয়া থেকে রক্ষা করে এই আমলকীর নির্যাস। আমলকী নানামুখী উপকারিতার জন্য দেশি-বিদেশি ওষুধ এবং প্রসাধনী সামগ্রী তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া আমলকীর আচার ও মোরব্বা সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।
চিরল পাতার আমলকী গাছ শহর বা গ্রামাঞ্চলে একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও পুষ্টি যোগাতে পারে। কাজেই আসুন আমরা কদর বুঝতে চেষ্ট করি, বেশি করে আমলকী গাছ লাগাই এবং ওষুধ হিসেবে খাওয়া ছাড়াও প্রতিদিন নানা খাবার খাওয়ার পাশাপাশি কমপক্ষে দুটো করে আমলকী খাই, যা সুস্থ জীবনের জন্য খুবই উপকারী।

