মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা পারমাণবিক বোমায় মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পুরো শহর। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নানা কর্মসূচি, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের আহ্বানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে সেই ভয়াল দিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন ‘ম্যানহাটন প্রকল্প’-এর অধীনে তৈরি পারমাণবিক বোমাগুলোর প্রথমটি হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা হয়। ‘লিটল বয়’ নামের বোমাটি মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান ‘এনোলা গে’ থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে ফেলা হয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তেই হিরোশিমার বিশাল এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। ভয়াবহ তাপ, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও পরবর্তী তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে তাৎক্ষণিকভাবে এবং পরবর্তী কয়েক মাসে আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। নিহতদের বড় একটি অংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।
হামলার পর শহরটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যারা বেঁচে যান, তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে তেজস্ক্রিয়তার কারণে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। সেই বেঁচে যাওয়া মানুষদের জাপানে ‘হিবাকুশা’ নামে অভিহিত করা হয়।
হিরোশিমা দিবস উপলক্ষে শহরের পিস মেমোরিয়াল পার্কে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিরোশিমায় হামলার মাত্র তিন দিন পর, ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট জাপানের আরেক শহর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’ নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলাতেও বিপুল প্রাণহানি ঘটে।
হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই ধ্বংসযজ্ঞ আজও বিশ্ববাসীর কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতার অন্যতম প্রতীক। তাই প্রতি বছর এই দিনটি ফিরে আসে যুদ্ধের ভয়াবহতা স্মরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের প্রত্যাশা নিয়ে।

