নিজস্ব প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একই দাগের জমি একাধিক ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত পরিমাণে নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খোলাপাড়া মৌজার আরএস ২৮৪ নম্বর দাগে মোট জমির পরিমাণ ৭৯ শতাংশ। তবে পৃথক তিনটি আবেদনের মাধ্যমে এই এক দাগ থেকেই মোট ১০৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নামজারি ও জমাভাগ দেখানো হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রথমে আনোয়ারা বেগম ও মনোয়ারা খাতুনের নামে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নামজারি করা হয়। পরবর্তীতে আওলাদ হোসেনের নামে একই দাগে ৭৯ শতাংশ জমি নামজারি করা হয়। এছাড়া মো. হিম্মত আলীর নামে আরও ১৯ শতাংশ জমি নামজারি দেখানো হয়েছে।
ভূমি অফিসের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, আনোয়ারা ও মনোয়ারার নামে সাড়ে ১০ শতাংশ জমির জোত খোলা হয়েছে। আওলাদ হোসেন ৭৯ শতাংশ জমি নামজারি পেলেও জোত খোলা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে হিম্মত আলীর নামে নামজারি থাকলেও তার কোনো জোত খোলা হয়নি, ফলে তিনি দাখিলা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী হিম্মত আলী জানান, ক্রয় ও পৈত্রিক সূত্রে তিনি মোট ৩৮ শতাংশ জমির মালিক। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ বিক্রি করলেও অবশিষ্ট জমির নামজারি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি খাজনার দাখিলা পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, নামজারির পর যথাসময়ে জোত খোলা না হওয়ায় এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, “একই দাগের জমিতে এভাবে অতিরিক্ত নামজারি হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

