নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা বিএনপির নেত্রী আফরোজা খানম রিতা এবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানিকগঞ্জ-৩ আসনসহ পুরো জেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩ ভোটে। ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতেই তিনি প্রথম হন। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী নেতাদের মধ্যে ব্যবধানের দিক থেকে তিনি এখন তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী রাখার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই তাকে তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। একই সঙ্গে তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও জনসমর্থন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তার বাবা প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে তিনি মুন্নু সিরামিককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলেন। বাবার মৃত্যুর পর মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন রিতা। বর্তমানে তিনি মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০১ সালে বাবার নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পরে কাউন্সিল ভোটে পুনরায় দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আফরোজা খানম রিতা বলেন, “মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার কারণেই এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। আমি দায়িত্বকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছি।” তিনি মানিকগঞ্জকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নারী নেতৃত্ব শুধু অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ব্যবধান গড়ে জয়ের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন মানিকগঞ্জের কৃতি সন্তান আফরোজা খানম রিতা।

