ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধি। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তর ইন্দিরা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধি বলেন, সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে সবার অংশ নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, এ লড়াই শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী জোটের মিছিল বারাখাম্বা মোড় থেকে শুরু হওয়ার কথা। এ কর্মসূচিতে বিজেপির সমর্থকদেরও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধি। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন সংবিধান আক্রান্ত হচ্ছে, তাহলে তিনি যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রায় ২০০ কর্মকর্তা বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, সরকারের ভেতরে থাকা এসব কর্মকর্তা বিরোধীদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
রাহুল গান্ধি আরও দাবি করেন, পুলিশ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের একটি অংশ বিরোধীদের অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন সদস্যের সহযোগিতায় ‘ভোট চুরি’ হচ্ছে, যার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব রয়েছে বিরোধী জোট। একই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের গঠিত ককরোচ জনতা পার্টিও।
এর আগে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছিল।

