সময়পত্র ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জনকে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হতো। ভাঙচুর ও লুটপাটের পর স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও শিশুরা।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আক্তার জানান, বর্তমানে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ। পরিদর্শন শেষে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থা দেখে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের কথা মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি সব দলের মানুষের সন্তানরা ব্যবহার করেন এবং এমন একটি প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এর আগে ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার আহ্বান—লোক দেখানো গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে নিজ দলের কর্মীদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে।
প্রসঙ্গত, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজিব হোসেনকে।

