ক্রিড়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন দিন পর সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ‘সেরা একাদশ’ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা। ক্লাসিক ৪-৩-৩ ফরমেশনে সাজানো এই একাদশে সবচেয়ে বেশি তিনজন করে জায়গা পেয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও সেমিফাইনালিস্ট ফ্রান্সের ফুটবলাররা।
রানার্সআপ আর্জেন্টিনা থেকে রয়েছেন দুজন। এছাড়া ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও আফ্রিকার চমক কেপ ভার্দে থেকে একজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। তবে সমর্থকদের ভোটে বড় চমক হলো—পুরো টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানো স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল এবং ব্রাজিলের কোনো ফুটবলারই এই একাদশে জায়গা পাননি।
গোলবারের নিচে জায়গা পেয়েছেন বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। পুরো আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে চমকপ্রদ সাফল্য এনে দেওয়া এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন।
রক্ষণভাগে রয়েছেন স্পেনের দুই ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া, আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো। টুর্নামেন্টে এক মিনিটও বেঞ্চে না বসে মাঠে থাকা কুকুরেয়া দুটি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি স্পেনের সাতটি ক্লিন শিট নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মাঝমাঠে রাখা হয়েছে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি, ফ্রান্সের হয়ে সাতটি অ্যাসিস্ট করা মাইকেল ওলিসে এবং ইংল্যান্ডের হয়ে সাত গোল করা জুড বেলিংহ্যামকে।
আক্রমণভাগে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ড।
এমবাপ্পে টুর্নামেন্টে ১০ গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে টানা দ্বিতীয়বার গোল্ডেন বুট জেতেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ২২ গোল নিয়ে শীর্ষে ওঠেন। সমর্থকদের ভোটে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে একাদশে জায়গা করে নেন ফরাসি অধিনায়ক।
অন্যদিকে ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আট গোল ও চার অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। আর নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গেলেও সাত গোল করা ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হলান্ডকে একাদশের মূল সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।
ফিফার বিশ্বকাপ সেরা একাদশ:
গোলরক্ষক: ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে)
রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)
মাঝমাঠ: রদ্রি (স্পেন), মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স), জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)

