সময়পত্র ডেস্ক: গত দুই বছরে ইসরায়েল ছেড়ে অন্য দেশে যাওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নাগরিক। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কেএএন নিউজের এক নতুন জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার প্রকাশিত জরিপের ফল অনুযায়ী, ১৮ শতাংশ ইসরায়েলি জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তারা দেশ ছাড়ার বিষয়টি ভেবেছেন। একই সময়ে জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের একজন বলেছেন, গত দুই বছরে ইসরায়েল ছেড়ে চলে যাওয়া অনেক মানুষকে তারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন।
জরিপে ১২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের ফল তাদের ইসরায়েল ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ, নির্বাচনের ফল তাদের দেশত্যাগের পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে দেশত্যাগের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে ইসরায়েলিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জরিপে ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। বিপরীতে ৪১ শতাংশ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতেও এ বিষয়ে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। জোট সরকারের সমর্থকদের ৭০ শতাংশ দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ২২ শতাংশ জোট সমর্থক। অন্যদিকে, বিরোধী দলের সমর্থকদের প্রায় ৬০ শতাংশই ইসরায়েল থেকে মানুষের দেশত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
‘দেশত্যাগের সুনামির’ সতর্কতা
ইসরায়েল থেকে নাগরিকদের দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিলেন দেশটির অভিবাসন, শোষণ ও প্রবাসী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এমকে গিলাদ কারিভ। তিনি ইসরায়েল ‘দেশত্যাগের সুনামির’ মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে ৯০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক টানা তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়ে বাইরে অবস্থান করেছেন।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে করা ওই গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০৯ জন, ২০২৪ সালে ৯১ হাজার ৪৯৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৯০ হাজার ৯২২ জন নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। তিন বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩০ জন।
তুলনায়, ২০১৩ থেকে ২০১৫—এই তিন বছরে ইসরায়েল ছেড়েছিলেন ৮৩ হাজার ২১৯ জন নাগরিক।
সাম্প্রতিক জরিপ ও গবেষণার তথ্য বলছে, ইসরায়েল থেকে দীর্ঘমেয়াদে নাগরিকদের দেশত্যাগের প্রবণতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের ফলও অনেক নাগরিকের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

