নিজস্ব প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ধসে বান্দরবানের লামায় পাঁচজন এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর এলাকায় পাহাড়ধসে পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বান্দরবান সদর থেকে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কাতালগঞ্জ, চকবাজার, হালিশহর, আগ্রাবাদ, ষোলশহর, চান্দগাঁও, মোহরাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত চার দিনে চট্টগ্রামে মোট ৮০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৪৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এ কারণে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে রাতের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমায় চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন ছড়া-খালের পানি কিছুটা নেমেছে। এতে জেলা সদরের কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা কমলেও বেতছড়ি মার্মাপাড়া, বিচিতলা, লার্মাপাড়া ও বটতলার কয়েকটি এলাকায় এখনও পানি জমে রয়েছে।
এদিকে, কবাখালি, মেরুংসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক তলিয়ে থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীঘিনালা-সাজেক-লংগদু ও বাঘাইছড়ি সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অব্যাহত বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি ওঠায় বুধবার বিকেল থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

